নিজস্ব প্রতিবেদক;
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও বিএনপি নেতা মিছবাহ উদ্দিন মিন্টুর যোগসাজশে বেআইনিভাবে ট্যাক্স-টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বান্দরবানের সহকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ পরিবেশ রক্ষায় গঠিত জেলা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় সভায় এ অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা বা ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় মিছবাহ উদ্দিন মিন্টু নামের এক ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে ট্যাক্স ও টোল আদায়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো বৈধ রসিদ বা ইউপি ইজারার কাগজপত্র ছাড়াই ট্যাক্সের নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, ফাইতং ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। সামান্য ১০-১২ কেজি কৃষিপণ্য কিংবা ছোটখাটো মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও কর আদায়ের নামে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করা হলে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো ট্যাক্স বা ইজারা আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরও ইজারাদার পরিচয়ে হেলাল উদ্দিন, মিছবাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি সড়কে বাঁশের গেট বসিয়ে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধভাবে আদায় করা টাকা সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি অবৈধ গেট অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্টদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার কথাও বলেন তারা।
এ বিষয়ে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেন, “গেট ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে পরিষদের পক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন নামে একজনকে টোল আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পর সহকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া একই সড়কে প্রায় ২০০ গজের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ বাঁশের গেট বসিয়ে একই পণ্যের ওপর দুই দফা ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। স্থানীয়রা এ ধরনের ট্যাক্স আদায়কে বেআইনি ও কৃষকের স্বার্থবিরোধী বলে দাবি করেছেন।
